
ব্যুরো: স্কুল সার্ভিস কমিশনের (এসএসসি) নতুন নিয়োগ বিধির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যে মামলা হয়েছিল, তা খারিজ করে দিল শীর্ষ আদালত। বিচারপতিরা স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ‘বঞ্চিত’ দাবি করে যাঁরা আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন, তাঁদের দাবি গ্রহণযোগ্য নয়।
এদিন বিচারপতি সঞ্জয় কুমার এবং বিচারপতি সতীশচন্দ্র শর্মার ডিভিশন বেঞ্চ মামলাকারীদের উদ্দেশে সোজাসাপটা প্রশ্ন তোলেন, “আপনারা কারা? যোগ্য না অযোগ্য? অযোগ্যদের তো বাদ দেওয়া হয়েছে।” এবং সাফ জানিয়েও দেন, “আমরা কোথাও বলিনি, আগের বিধি মেনে নিয়োগ চালু রাখতে হবে। আমাদের রায় ছিল নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করার পক্ষে। কিন্তু সেখানে কীভাবে নিয়োগ হবে, সেটা নির্ধারণের দায়িত্ব এসএসসি-র।”
প্রসঙ্গত, সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়ের জেরে ২০১৬ সালের এসএসসি প্যানেল বাতিল হয়ে যায়। যার ফলে ২৫,৭৩৫ জন শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি খারিজ হয়ে যায়। ২০২৪ সালের সেই রায় এসেছিল তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্নার বেঞ্চ থেকে, যার সদস্য ছিলেন বিচারপতি সঞ্জয় কুমারও।
সেই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই এসএসসি নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। কিন্তু সেই বিজ্ঞপ্তির কিছু অংশ নিয়ে আপত্তি তোলেন কিছু প্রার্থী, বিশেষ করে আগের ওয়েটিং লিস্টে থাকা ব্যক্তিরা। তাঁদের দাবি, পুরনো নিয়ম অনুযায়ীই নতুন নিয়োগ হোক। সেই দাবিতেই কলকাতা হাই কোর্টে মামলা করেন তাঁরা।
কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌমেন সেন ও বিচারপতি স্মিতা দাসের ডিভিশন বেঞ্চ সেই মামলাগুলিও খারিজ করে দেয়। আদালতের সাফ বার্তা, “কমিশন ও পর্ষদ বর্তমান অচলাবস্থার জন্য দায়ী হলেও, দ্রুত শূন্যপদ পূরণ করাই এখন মূল লক্ষ্য। না হলে ভবিষ্যতে জটিলতা আরও বাড়বে।”
সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মামলাকারীরা সুপ্রিম কোর্টে যান। কিন্তু শীর্ষ আদালতও তাঁদের দাবিকে গ্রহণযোগ্য মনে করল না।
বিচারপতি কুমার সোমবার মামলার শুনানিতে বলেন, “এসএসসি একটি দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা। কীভাবে নিয়োগ হবে, সেই সিদ্ধান্ত তারা নিতেই পারে। আমরা শুধু বলেছিলাম নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু করতে। নির্দিষ্ট কোনও নিয়োগ বিধি চাপিয়ে দিইনি।”
তিনি আরও মনে করিয়ে দেন, যেই বেঞ্চ ২০১৬ সালের প্যানেল বাতিলের রায় দিয়েছিল, তিনি সেই বেঞ্চের সদস্য ছিলেন। তাঁর কথায়, “সেই সময় প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতেই আমরা রায় দিয়েছিলাম। আমি তখনও সহমত ছিলাম, আজও আছি। এই প্রেক্ষিতে আপনাদের দাবি মানা সম্ভব নয়।”
মামলাকারীরা নিজেদের ‘বঞ্চিত’ দাবি করলেও, আদালত তাঁদের যুক্তি মানতে নারাজ। পর্যবেক্ষণে বিচারপতিরা বলেন, “আপনারা নিয়োগের জন্য নির্বাচিত হননি। যোগ্যদের তালিকায় নেই, অযোগ্যদের তালিকায়ও নন। তাহলে আপনাদের দাবি কীভাবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে?”
এই মন্তব্যেই পরিষ্কার, আদালত চাইছে চলমান অচলাবস্থার অবসান হোক, যাতে শিক্ষক নিয়োগের কাজ দ্রুত শুরু করা যায়। কারণ, বিলম্ব মানেই শিক্ষাব্যবস্থার আরও ক্ষতি।